ডিজিটাল মার্কেটিং

এসইও কি? সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কিভাবে কাজ করে?

1 min read
avatar
সুন্নাহ আইটি ইন্সটিটিউট
what is seo 1

আমরা কম বেশি সবাই সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে পরিচিত। ডিজিটাল এই যুগে যেকোনো তথ্য খুঁজে বের করার জন্য আমরা সকলেই সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকি। Google, Being, Yahoo ইত্যাদি হলো বিভিন্ন প্রকারের সার্চ ইঞ্জিন। কিন্তু এসইও কি বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত খুব কম মানুষই জানেন।  

আমরা যখন সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু সার্চ করি সেটা হোক Google অথবা ইয়াহু (Yahoo); প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিন-ই চায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল অথবা কনটেন্ট তার ব্যবহারকারীকে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছে দিতে। আর এই বিষয়টি সম্ভব হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে।  একটি ওয়েবসাইট ব্যাংক করানোর ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর গুরুত্ব  অপরিসীম। আর আজকে এই ব্লগের পুরোটা জুড়েই আমি আলোচনা করব সার্চ ইঞ্জিন কি, এসইও কি বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি এই বিষয়গুলো নিয়ে। আর এই ব্লগের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন এসইও কেন প্রয়োজন, এসইও কিভাবে কাজ করে, এবং পেয়ে যাবেন এসইও (SEO) জগতের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন।

সার্চ ইঞ্জিন কি? সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে সার্চ ইঞ্জিন কি এবং সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে এই বিষয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক। যে কোন সার্চ ইঞ্জিনে আমরা যখন কোন কিছু লিখে সার্চ করি তখন আমরা অনেকগুলো ওয়েবসাইটের লিংক দেখতে পাই। কিন্তু এটা কিভাবে কাজ করে? চলেন সে বিষয়ে আগে জেনে নেই।

সার্চ ইঞ্জিন মূলত তৈরি হয়েছে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য। এই সার্চ ইঞ্জিন গুলো কিছু অ্যালগরিদম তৈরি করে রাখে যার মাধ্যমে আমরা যখন কোন কিছু লিখে সার্চ দেই তখন সবচেয়ে কাছাকাছি এবং তথ্যবহুল ফলাফলটি আমাদের কাছে সবার আগে দেখায়। অনেকগুলো সাইটের মধ্যে তুলনা করে, সার্চ ইঞ্জিন যে সাইটটিকে ভালো মনে করে সে সাইটটিকে সবার সামনে নিয়ে আসে। তাই সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান এর পাশাপাশি আপনার কনটেন্ট বা ব্লগ ও মানসম্মত হতে হবে। আর তাহলেই কেবল আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টের প্রথম দিকে দেখাবে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি? (What is SEO)

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও হলো এমন কিছু  নিয়ম কানুন বা পদ্ধতি যা অনুসরণের মাধ্যমে একটি  সার্চ ইঞ্জিন কোন একটি ওয়েবসাইটকে ঐ সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে দেখায়। আমরা যখন কোন সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু লিখে সার্চ করি তখন প্রথম পেজে কতগুলো ওয়েবসাইট দেখায় আবার দ্বিতীয় পেজে কিছু ওয়েবসাইট, একইভাবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম পেজেও বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখায়। এই পেজগুলোকে বলা হয় SERPs (Search Engine Result Pages)। একটি ওয়েবসাইটকে এই পেজগুলোর  প্রথম দিকে দেখানোই এসইও বা সার্চ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশানের মূল কাজ। বর্তমান সময়ে এসইও ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিকভাবে ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব নয়।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

ইন্টারনেটে ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান এর কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে অনেক টাকা উপার্জন করছে। এছাড়াও যারা বিভিন্ন ব্লগ নিয়ে কাজ করে তাদের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসইও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান কত প্রকার

আমরা সাধারণত জানি এসইও দুই প্রকার। অন পেজ এসইও এবং অফ পেজ এসইও। তবে মৌলিক দিক থেকে এসইও SEO কে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ

  1. অন পেজ এসইও
  2. অফ পেজ এসইও
  3. টেকনিক্যাল এসইও

এসইও করার সময় কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে এসইও কে আবার দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ

  1. হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)
  2. ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO)

লোকেশন এর ভিত্তিতে এসইও SEO আবার দুই ধরনের। যেমনঃ

  1. লোকাল এসইও (Local SEO)
  2. গ্লোবাল এসইও (Global SEO)

এছাড়াও ওয়েবসাইটের ধরণ ও কার্যক্রম ও ব্যবহারগত দিক থেকে এসইও কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ ই-কমার্স এসইও, Wix SEO, Shopify SEO, ইত্যাদি। চলুন তাহলে এসব এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাকঃ

১। হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)

প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিনের নিজস্ব কিছু রাঙ্কিং এলগরিদম এবং প্যারামিটার রয়েছে। এই প্যারামিটার গুলো সঠিকভাবে মেনে চললেই একটি ওয়েবসাইট রেংকিং এ প্রথমের দিকে আসে। একটি ওয়েবসাইট রেংকিং এ আনার জন্য সার্চ ইঞ্জিন যেসব নির্দেশনা এবং নিয়ম অনুসরণ করতে বলেছে সেগুলো ঠিক ওই ভাবেই অনুসরণ করাকেই বলে হোয়াইট হ্যাট এসইও। আর এই পদ্ধতি অবলম্বনে একটি ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করলে অনেক ভালো ট্রাফিক বা ভিজিটর পাওয়া যাবে।

২। ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO)

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO) হলো ঠিক হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO) এর বিপরীত।  ব্ল্যাক হ্যাট এসইও হল সার্চ ইঞ্জিনের নির্দেশনা না মানা বা নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করা। একটি ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন এর জন্য যেমন কিছু নিয়মকানুন রয়েছে তেমনি কিছু নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কনটেন্ট লেখা, বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে লিঙ্ক বিল্ডিং করা, ইত্যাদি ব্লাক হেট এসইও। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট প্রথম পেজে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু একটা সময় সার্চ ইঞ্জিন ঠিকই এই বিষয়টার ফুটপ্রিন্ট ধরে ফেলে এবং ওই ওয়েবসাইটটিকে র‍্যাঙ্ক থেকে সরিয়ে দেয় এবং ওই ওয়েবসাইটকে পুনরায় র‍্যাঙ্ক করানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

৩। অন পেজ এসইও (On Page SEO)

সহজ ভাষায়, একটি ওয়েবসাইটকে কোন সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিংয়ে আনার জন্য ওই ওয়েবসাইটের ভিতরে  কোন কনটেন্ট নিয়ে যা কাজ করা হয় তাই হলো অন পেজ অপটিমাইজেশন। অন পেজ করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে কিছু নিয়মকানুন বা প্যারামিটার অনুসরণ করতে হয় যেগুলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন পেজ অপটিমাইজেশন এর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হয় সেগুলো হলোঃ

  • একটি কনটেন্ট এ একটিমাত্র h1 ট্যাগ ব্যবহার করা যা টাইটেল হিসেবে গণ্য হবে। 
  • ফোকাস কীওয়ার্ড টি অবশ্যই টাইটেল, ইউ আর এল এবং মেটা  ডেসক্রিপশন এর মধ্যে ব্যবহার করা। 
  • ফোকাস কীওয়ার্ড টি কিছু কিছু সাব হেডিং এর মধ্যেও ব্যবহার করা।
  • কনটেন্ট এর মধ্যে এবং বিভিন্ন সাব হেডিং এ প্রাসঙ্গিক জায়গায় অন্যান্য রিলেভেন্ট কীওয়ার্ড অর্থাৎ LSI কীওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • ফোকাস কিওয়ার্ড টি অবশ্যই প্রথম প্যারার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা।
  • কীওয়ার্ড ডেনসিটি ১-২% এর মাঝে রাখার চেষ্টা করতে হবে। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিন সেটাকে কীওয়ার্ড স্টাফিং (Keyword Stuffing) বলে মনে করবে যা এসইও এর উপরে খারাপ প্রভাব ফেলবে।
  • সমস্ত ছবিতে Alt-text ব্যবহার করতে হবে এবং অন্তত একটি ছবিতে Alt-text হিসেবে ফোকাস কিওয়ার্ড টি ব্যবহার করতে হবে.
  • কনটেন্ট এর কোন একটি শব্দের সাথে  ওই ওয়েবসাইটে পূর্বে প্রকাশিত রিলেভেন্ট কোন কনটেন্ট এর লিংক অ্যাড করতে হবে।  এই প্রক্রিয়াকে বলা হয়  ইন্টার্নাল লিংকিং (Internal Linking)।
  • একইভাবে আপনার ওয়েবসাইটের বাহিরের কোন ওয়েবসাইটের রিলিভেন্ট লিংক আপনার কনটেন্টের কোন শব্দের সাথে লিংক করতে হবে যাকে বলা হয় আউট বাউন্ড লিংকিং বা এক্সটার্নাল লিংকিং (External Linking)।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে অন পেজ করার সুবিধার জন্য অনেক ধরনের এসইও প্লাগিন ব্যবহার করা হয়। যেমন Rankmath SEO Plugin, Yoast SEO Plugin, ALL in One SEO Plugin। বর্তমানে এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এসইও প্লাগিন হলো Rankmath SEO Plugin। এই প্লাগিন ব্যবহার করে সহজেই অন্যান্য প্লাগিন এর প্রিমিয়াম ফিচারগুলো ফ্রিতেই ব্যবহার করা যায় এবং সহজে কন্টেন্ট টিকে অপটিমাইজ করা যায়।

৪। অফ পেজ এসইও (Off Page SEO)

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর যেসব কাজ ওয়েবসাইটের বাহিরে করা হয় সেগুলোই হলো অফ পেজ এসইও। যেমন সোশ্যাল শেয়ার, লিংক বিল্ডিং, লোকাল সাইটেশন,ডিরেক্টরি সাবমিশন, ইত্যাদি। এক কথায় অফ পেজ মানেই হল সাইটের বাহিরে কাজ করা। আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, আপনার ওয়েবসাইটের ইউআরএল যদি অন্য কোন প্লাটফর্মে শেয়ার করা হয় এটিই হল অফ পেজ এসইও। অফ পেজ এসইও এর মূল বিষয়ই হল ব্যাক লিংক।

গুগল এর চোখে ব্যাকলিংক অনেকটা ভোটিং এর মতো কাজ করে। অর্থাৎ আপনি বেশি ব্যাকলিংক পাওয়ার মানে হলো আপনার কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পছন্দনীয়। আর গুগল এটা দেখেই আপনার কনটেন্টকে প্রথম দিকে নিয়ে আসবে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের এর ব্যাকলিংক এর ক্ষেত্রে গুগল ২ ধরনের ট্যাগ ব্যবহার করে থাকে। Do – Follow এবং  No – Follow এবং এদের মাঝে Do – Follow লিংক হলো গুগলের কাছে বিশ্বস্ত। তাই আমাদের ব্যাকলিংক করার মূল উদ্দেশ্যই হতে হবে Do – Follow ব্যাকলিংক কালেক্ট করা। 

৫। টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO)

টেকনিক্যাল এসইও কে অনেকেই অন পেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর কারণ অন পেজ এর মত টেকনিক্যাল এসইও এর কাজও website এর ভিতরেই করতে হয়। একটি ওয়েবসাইট টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন থেকে আরও বেশি পরিমাণ ভিজিটর পাওয়া যায় এবং এটি অর্গানিক রেংকিং এ অনেক সহায়তা করে। টেকনিক্যাল এসইও করার জন্য আমাদের যে পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করতে হবে সেগুলো হলোঃ

  • সর্বপ্রথম আমাদের ওয়েবসাইট টি গুগল সার্চ কনসোল (Google Search Console) বা বিং ওয়েবমাস্টার টুলের (Bing Webmaster Tools) সাথে যুক্ত করতে হবে। 
  • Rankmath SEO Plugin বা Yoast SEO Plugin ইন্সটল করার মাধ্যমে আমাদের ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপ (Sitemap) অটোমেটিক্যালি জেনারেট হয়ে যায়। সেই সাইটম্যাপটি গুগল সার্চ কনসোল (Google Search Console) এবং বিং ওয়েব মাস্টার টুল (Bing Webmaster Tools) উভয় জায়গায় সাবমিট করতে হবে। 
  • ওয়েবসাইটের জন্য অবশ্যই https ব্যবহার করতে হবে কারণ এটি http অপেক্ষা অধিক সুরক্ষিত। 
  • কোন কনটেন্ট এর ইউআরএল পরিবর্তন করলে অবশ্যই পুরাতন ইউআরএল টি কে নতুন ইউআরএল এ ৩০১ রিডাইরেক্ট  করে দিতে হবে। 
  • ওয়েবসাইটে কোন ডুপ্লিকেট কনটেন্ট অথবা ব্রোকেন লিংক আছে কিনা সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে। ওয়েবসাইটের পেজ লোডিং স্পিড যেন খুব দ্রুত হয় সেজন্য বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করতে হবে।

৬। লোকাল এসইও (Local SEO)

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো লোকাল এসইও। কোন নির্দিষ্ট দেশ, শহর, স্থান অথবা কোন নির্দিষ্ট অডিয়েন্স কে টার্গেট করে যখন একটি ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করা হয় তাকেই বলা হয় লোকাল এসইও (Local SEO)। লোকাল এসইও এর গুরুত্ব একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝালে আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

ধরুন, ঢাকায় আপনার একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে এবং আপনি ওই মোবাইলের দোকানের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেন। এখন আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য seo করবেন তখন কি পুরো বিশ্বের অডিয়েন্স কে টার্গেট করবেন? কখনোই  না!  কারণ আপনার দোকান তো ঢাকায় অবস্থিত। ইন্ডিয়া বা আমেরিকা থেকে একজন মানুষ ঢাকায় এসে কখনোই মোবাইল কিনবে না। তাই আপনাকে এমনভাবে এসইও করতে হবে যেন ঢাকায় বসবাসরত মানুষ অথবা তার আশেপাশের মানুষ আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে পারে। আর তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর থেকে সবচেয়ে বেশি কাস্টমার পাবেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কীভাবে কাজ করে?

আগে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে লিঙ্ক বিল্ডিং সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি ছিল। অর্থাৎ আপনি অন্য ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ব্যাকলিঙ্ক আনতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিংয়ে তত এগিয়ে আসবে। তবে এই পদ্ধতি এখন আর কার্যকরী নয়। বর্তমান সময়ে সার্চ ইঞ্জিনগুলো অনেক আপডেট হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং এর  ২০০ টি ফ্যাক্টর রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  উন্নত ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, পেজ স্পিড, মোবাইল রেস্পন্সিভ ডিজাইন, ডাটা স্ট্রাকচার অপটিমাইজেশন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরে ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং নির্ভর করে।

তাছাড়া কনটেন্টকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের প্রান বলা হয়। এক কথায় content is king। আপনি যদি ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে অপটিমাইজড একটি কনটেন্ট ওয়েবসাইটে দিতে পারেন তাহলে সেটি ব্যাংক করার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর ক্ষেত্রে কনটেন্ট বলতে মূলত ব্লগকে বুঝানো হয়। নিখুঁতভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে সেটির উপরে ব্লগ পাবলিশ করলে একটি ওয়েবসাইটে ভালো ট্রাফিক আনা যায়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কনটেন্ট টি অন পেজ অপটিমাইজেশনের সকল নিয়ম মেনে লিখতে হবে। একই কিওয়ার্ডে অন্যান্য কম্পিটিটাররা কিরকম কনটেন্ট পাবলিশ করেছে তা এনালাইসিস করে তাদের থেকে বেশি শব্দ, তথ্যবহুল এবং ভালো মানের কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে।

কনটেন্ট পাবলিশ হয়ে যাবার পর সেটি যখন গুগলে ইনডেক্স হয়ে যাবে তখন কম্পিটিটরদের ব্যাক লিংক এনালাইসিস করতে হবে এবং তাদের চেয়ে ভালো মানের লিংক বিল্ড করতে হবে।

সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্কিং পেতে কত সময় লাগে?

একটি ওয়েবসাইটকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করার জন্য ধাপে ধাপে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। প্রথমে ওই ওয়েবসাইটের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়। তারপর ওই কিওয়ার্ডের উপর ভালো মানের কনটেন্ট দিতে হয় এবং কনটেন্ট এর অন পেইজ opimization করতে হয়। পর্যায়ক্রমে টেকনিক্যাল এসইও, অফ পেজ এসইও সহ আরো অনেক কাজ করতে হয়।  বিষয়টি এমন না যে একটি ওয়েবসাইট রাতারাতি রেংকিং পেয়ে যাবে। প্রথম কয়েক মাস সময় লেগে যাবে ওয়েবসাইট আপডেট হতেই। সব মিলিয়ে সাধারণত একটি ওয়েবসাইট রেংকিং এ আসতে ৩-৬ মাসের মত সময় লাগে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে বা SEO এর উদ্দেশ্য

সব ধরনের সার্চ ইঞ্জিনের উদ্দেশ্যই হলো ব্যবহারকারীকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া। আর এসইও সেই তথ্যকে সার্চ ইঞ্জিনের উপযোগী করে তোলে। সার্চ ইঞ্জিনে ইউজাররা কি ধরনের জিনিস খুঁজছে, কোন বিষয়ে তাদের আগ্রহ বেশি, অথবা তারা কোন ধরনের সমস্যার সমাধান চাচ্ছে, কেমন ধরনের কিওয়ার্ড ব্যবহার করছে, এবং কিরকম কনটেন্ট চাচ্ছে সবকিছু এসইও এর মাধ্যমে বুঝতে পারা যায় এবং এ সকল সমস্যার সমাধান করে ইউজারকে সবচেয়ে উপযোগী সমাধান প্রদান করা যায়।

সঠিক নিয়মাবলী অবলম্বনের মাধ্যমে SERP অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজেস এ আপনার ওয়েবসাইট কে সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে নিয়ে আসাই হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মূল উদ্দেশ্য। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে সার্চ ইঞ্জিন গুলোর লক্ষ্য হলো তাদের ইউজার কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া যাতে করে ইউজাররা পুনরায় সার্চ ইঞ্জিনে আসে এবং দীর্ঘসময় অবস্থান করে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এর সুবিধাঃ

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এর সুবিধা অনেক। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে অপটিমাইজড করতে পারেন তাহলে এর দীর্ঘস্থায়ী সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কারণ বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সেক্টর। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কিছু সুবিধা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর সুবিধা

১। অর্গানিকভাবে অধিক মুনাফা অর্জন

বিজ্ঞাপন অথবা পেইড মার্কেটিং এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট বা কোন প্রোডাক্ট মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় ঠিকই কিন্তু যখন বিজ্ঞাপন শেষ হয়ে যাবে তখন মার্কেটিংও বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু পেইড মার্কেটিং এ যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তার থেকে অনেক কম খরচে অধিক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এর মাধ্যমে। আর এসইও এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, একবার র‍্যাংক আসলে সহজে ওই ওয়েবসাইটকে রেংক থেকে সরানো সম্ভব হয় না। অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আপনি যদি একবার আপনার ওয়েবসাইটকে বা প্রোডাক্ট কে রেংকে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সেটা সুবিধা অনেক সময় ধরে ভোগ করতে পারবেন যা পেইড মার্কেটিং এ কখনোই সম্ভব না।

২। সহজে সাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি

ধরা যাক, আপনার ওয়েবসাইট টি অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো এবং অনেক ইনফরমেটিভ। একই সাথে আপনার ওয়েবসাইটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টও রয়েছে। কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটে ভালো ট্রাফিক বা ভিজিটর আপনি পাচ্ছেন না। অথবা ভালো কনটেন্ট নিয়েও আপনি আপনার কাঙ্খিত কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। তাহলে সেই ভালো কনটেন্টের কোন মূল্যই থাকেনা। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন স্ট্রেটেজি ফলো করার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার সাইটে আপনার কাঙ্খিত ভিজিটর অথবা কাঙ্খিত কাস্টমার পেতে পারেন। একই সাথে আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়ার কারণে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন এফিলিয়েট লিংক অ্যাড করতে পারবেন। ফলে আপনার সেল এবং প্রফিট বহুগুণে বৃদ্ধি পাবেই এবং আপনার একটি প্যাসিভ ইনকামেরও ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

৩। ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পাওয়া

সাধারণত সকলেই অর্গানিক জিনিস বেশি পছন্দ করে। তাই যখন আপনার ওয়েবসাইট বা প্রোডাক্ট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম দিকে থাকবে তখন আপনার ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বস্ততা বৃদ্ধি পাবে। আর এটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এর মাধ্যমেই সম্ভব। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আপনি যখন আপনার ব্র্যান্ড কে সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে নিয়ে আসবেন তখন আপনার ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টের প্রতি গ্রাহক বা ভিজিটর আরো বেশি আকৃষ্ট হবে। আর আপনি যদি এভাবে মানুষের মনে একবার বিশ্বস্ততার জায়গা করে নিতে পারেন তাহলে আপনার প্রফিট দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

৪। প্রচুর পরিমাণে ক্লিক পাওয়া

সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু সার্চ করার পরে প্রথমদিকের লিংক গুলোতেই মানুষ বেশি প্রবেশ করে। তাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আপনি যদি আপনার ব্র্যান্ড, ওয়েবসাইট, বা প্রোডাক্ট কে প্রথম পেজে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপনি প্রচুর পরিমাণে ক্লিক পেতে শুরু করবেন এতে করে আপনি অনেক ভিজিটর পাবেন এবং আপনার সেল অনেক পরিমাণে বেড়ে যাবে।

এসইও কীভাবে শিখবো বা কোথায় শিখবো?

যেহেতু বর্তমান সময়ে এসইও এর গুরুত্ব বেড়েই চলেছে তাই এই প্রশ্ন মনে আসতেই পারে যে এসইও কিভাবে শিখব বা কার কাছে শিখব। ভালোভাবে এসইও শিখার জন্য দুইটি পথ রয়েছে। একটি হচ্ছে কোন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিশ্বস্ত কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসইও শিখা এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন ব্লগ/ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব থেকে শিখা। তবে নিজে নিজে শিখতে গেলে অনেক ধৈর্য থাকতে হবে এবং অনেক রিসার্চ করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি কোন ভালো প্রতিষ্ঠান শিখেন তাহলে অল্প সময়েই সঠিকভাবে শিখতে পারবেন। তাই সবথেকে ভালো হয় কোন বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে শিখা। 

আপনি চাইলে Sunnah-IT Institute থেকে SEO শিখতে পারেন এবং নিজেকে একজন এসইও এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। Sunnah-IT Institute এ এস ই ও এর পাশাপাশি আপনি চাইলে হালালভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। এছাড়াও এখান থেকে আপনি ওয়েব ডিজাইন ও ইউআই/ইউএক্স  ডিজাইন শিখে রিমোট জবের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। আপনি চাইলে এগুলো শিখে লোকালি অথবা বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ করে নিতে পারবেন।

ক্যারিয়ার হিসাবে SEO এর ভবিষ্যৎ কি?

আশা করি উপরের লেখাটা পড়ে এতক্ষণে সার্চ ইঞ্জিন কি, কিভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কি, এবং কিভাবে এসইও করতে হয় এসব বিষয়ে আপনাদের একটি ভালো ধারণা হয়ে গেছে। এখন সবার মনে এই প্রশ্নটা আসতেই পারে যে, ক্যারিয়ার হিসেবে একজন এসইও এক্সপার্ট এর ভবিষ্যৎ কী? বা এসইও করে কেমন টাকা আয় করা যায়? চলুন তাহলে এই বিষয়ে জেনে নেই।

আপনি যদি একজন ভালো এসইও এক্সপার্ট হয়ে বিভিন্ন ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেমন Fiverr, Upwork, Seoclerks এ কাজ করে প্রতি মাসে আমাদের দেশের চাকরির তুলনায় অনেক ভালো একটা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে আমাদের দেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা কোম্পানি নিয়েও কাজ করতে পারবেন।

আবার আপনি চাইলে নিজে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে ব্লগ পোস্ট করে সেটার এস ই ও করতে পারেন। পরবর্তীতে ওই ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েশনের কাজ করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে অনেক ভালো একটি ইনকাম করতে পারবেন।

প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন ছোট একটা সার্ভিসের জন্য ও মানুষ ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং সেটির মাধ্যমে সার্ভিস পরিচালনা করে। আর এসব ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের সামনে নিয়ে আসার জন্য এসইও এর কোন বিকল্প নেই।

শেষ কথা

আমি আশা করি, এই কনটেন্ট এর মাধ্যমে আপনাদেরকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা দিতে পেরেছি। তবে বলে রাখা ভালো, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অনেক বড় একটা সেক্টর যা একটি কনটেন্টে কখনোই তুলে ধরা সম্ভব নয়। আপনি এভাবে বেসিক থেকে শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে অ্যাডভান্সড  লেভেল এর অপটিমাইজেশন এর দিকে আগাতে পারেন। এর জন্য আপনি ইউটিউব এর সহায়তা নিতে পারেন অথবা ভালো কোন এসইও ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেন যার ফলে আপনার কাজে দ্রুত সাফল্য আসবে।


avatar
সুন্নাহ আইটি ইন্সটিটিউট